Wednesday , September 20 2017
Home / Science & Technology / একটি আর্টিকেল সুন্দর ও আকর্ষণীয় যেভাবে করবেন

একটি আর্টিকেল সুন্দর ও আকর্ষণীয় যেভাবে করবেন

keep-writing-quality-content

আপনি যদি একজন অনলাইন আর্টিকেল লেখক(content writer) হন, আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে কিভাবে একটি আর্টিকেল সুন্দর ও আকর্ষণীও করতে হয়। একটি সুন্দর আর্টিকেলই পারে পাঠককে মুগ্ধ করতে ও পরবর্তী আর্টিকেল এর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করাতে। প্রতিটি খবরের কাগজেই গুরুত্তপুর্ন সকল খবরই পাওয়া যায়। তারপরও কেন কিছু খবরের কাগজের জনপ্রিয়তা থাকে আকাশচুম্বী? দাম, কাগজের মান, আকর্ষণীয় ছবি নাকি লেখার মান? এখানে কি লেখকের ভূমিকা স্বীকার করবেন না? আকর্ষণীয় লেখা তৈরি করতে হলে আপনাকে শিরোনাম (Title), ভূমিকা (Introduction), বিবরণ (Article Body) এবং সমাপ্তি (Conclusion)-এই সকল বিষয় নিয়ে আলাদা করে ভাবতে হবে। আমি এখানে একজন আর্টিকেল রাইটার হিসেবে আলোচনা করব আর্টিকেল যেভাবে আকর্ষণীয় করে তুলবেন।

## ব্যাকরণে এক কথায় প্রকাশ=আর্টিকেলে এক লাইনে প্রকাশ=শিরোনামঃ

 

‘অকালে পেকেছে যে’ কথাটি বোঝাতে       ‘অকালপক্ব’ শব্দটিই যথেষ্ট সাথে রসবোধও তৈরি করে। তেমনি আর্টিকেলের শিরোনাম দেখলে তার বিষয় বস্তু সম্পর্কে পুরো ধারনা পাওয়া যাবে, সেই সাথে আর্টিকেলটি পড়ার আগ্রহ বা আকর্ষণ তৈরির দায়িত্ব শিরোনামকেই নিতে হবে। তবে এক বিষয় অথবা একাধিক বিষয় হলেও আগে বিষয়গুলো একটি খাতায় লিখুন তারপর সকল বিষয়ের শিরোনামগুলো ঠিক করুন।

উল্টাপাল্টা লাগছে? আচ্ছা আমি সহজ করে বলছি।

 

ধরুন আপনার বিষয়গুলো হলঃ

১। আর্টিকেল সুন্দর করার টিপস।

২। আর্টিকেল লেখার পরের কিছু টিপস।

শিরোনাম হতে পারেঃ

১। যেভাবে একটি আর্টিকেল সুন্দর ও আকর্ষণীও করবেন।

২। খুবসহজে আর্টিকেলকে নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য করে তুলুন।

 

আমার একটি বদ অভ্যাস আছে, আমি খবরের কাগজ পড়তে গেলেও আগে শিরোনাম পড়ে শেষ দেই। তারপর বেছে বেছে দু-একটা বিস্তারিত পড়ি। আমার মত যারা আছে তাদেরকে তো শুধু সুন্দর একটি শিরোনাম দিয়েই পাঠক বানাতে পারেন।

 

## বিবরণের প্রতিটি অংশ একেকটি আর্টিকেলঃ

 

বিবরণের প্রতিটি অংশকে শুধুমাত্র অংশ মনে না করে একেকটি আর্টিকেল মনে করেন। যে আর্টিকেলে শিরোনাম, ভূমিকা, বিবরণ ও সমাপ্তি সবই থাকবে। প্রতিটি অংশের একটি শিরোনাম দিন। প্রথম লাইনকে ভূমিকা, শেষ লাইনকে সমাপ্তি এবং মাঝের অংশটুকু বিবরন কল্পনা করে লিখুন। এছারা প্রতিটি অংশের আয়তনের খুব বেশি পার্থক্য জেন না হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। এর মানে দাঁড়ালো কোন পাঠক যদি শুধুমাত্র শিরোনামগুলু দেখে চলে যায় তবুও যেন সে আর্টিকেল এর বিষয়টি সম্পর্কে ধারনা নিয়ে জেতে পারে(বুঝে নিতে পারে)। এছাড়া শিরোনামগুলো পড়লেই সে বুঝতে পাড়বে আর্টিকেলটি তার জন্য কতটা প্রয়োজনীয় হতে পারে। আচ্ছা আপনার কি মনে হয় শিরোনামগুলোতেই সকল কিছু পেয়ে গেলে সে চলে যাবে? আরে না- প্রতিটি শিরোনাম তো তাকে কান ধরে ওই অংশটুকু পড়তে বাধ্য করবে।

 

## ভূমিকা আর্টিকেলের আয়না যেখানে আর্টিকেলের ছায়া দেখা যাবেঃ

 

আয়নার দিকে তাকালে মানুষের ছায়া দেখা যায়, ভুমিকার দিকে তাকালে আর্টিকেলের ছায়া দেখা যাবে। বলুনতো মানুষ আগে না ছায়া আগে? নিশ্চয়ই মানুষ। তাহলে আপনি বিবরণ তৈরি না করে কি করে সুন্দর ভূমিকা তৈরি করবেন? বিবরনে যা লিখলেন তারই সারগর্ভ ভুমিকাতে লিখুন। সহজ করে বললে ভুমিকাতে ৩ টি প্রশ্নের উত্তর দেয়া উচিত – ১) কাদের জন্য লিখছেন? এ অংশে আমি লিখেছি আর্টিকেল রাইটারদের কথা যাতে সহজে পাঠক বুঝতে পারে এটি তার জন্য লেখা কিনা, ২) কি প্রয়োজনে লিখছেন? এ অংশে আমি লিখেছি আর্টিকেল এর উদ্দেশ্য যাতে সহজে পাঠক বুঝতে পারে এটি তার কাজে লাগবে কিনা এবং ৩) কি কি লিখছেন? এ অংশে আমি বিবরন অংশের উপর আলোকপাত করেছি যাতে সহজে পাঠক বুঝতে পারে এটিতে তার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য আছে কিনা। এভাবে লিখলে ভূমিকাটি আর্টিকেল হবেনা কিন্তু আর্টিকেলের ছায়া অবশ্যই হবে। তবে মনে রাখতে হবে ভুমিকার আয়তন আর্টিকেলের আয়তনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ থাকতে হবে।

 

## সমাপ্তি – সব শেষ, কি যেন আকর্ষণ রয়ে গেলঃ

 

ফ্রীল্যান্সীং বা আউটসোরসিং !! অনেকে ভাবছেন কি শিখবেন, কি করবেন আবার অনেকে কোন রকমে শিখেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন কিন্তু সফল হচ্ছেন না। আপনার সামনে অনেক সফল ব্যাক্তি থাকার কারনে হতাশা হয়তো আরও বেরে জাচ্ছে। আসলে আপনি সঠিক সময় অবধি অপেক্ষাই করতে পারছেন না। তারা কি একদিনে সফল হয়েছেন? হয়ত আপনাকে আর্থিক বা পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন কারন ধৈরয বা সময় কোনটিই ব্যায় করতে দিচ্ছে না। আপনার জন্য বলছি, আপনি যদি ভাল ইংরেজি জানেন তো খুব কম সময়ের মধ্যে কন্টেন্ট বা আর্টিকেল রাইটিং করে কিছু আরনিং শুরু করতে পাড়েন। পড়ে সুযোগ বুঝে একে পার্ট টাইম থেকে ফুল টাইম করে নিতে পাড়েন। ভয় পাচ্ছেন? না না ভয়ের কিছু নেই-ইটস ভেরি সিম্পল।

content Writing Career

কন্টেন্ট রাইটিং বলতে যা বুঝাতে চাচ্ছিঃ

লেখাটা যেহেতু নতুনদের জন্য তাই সহজ ভাবেই বলছি – আপনি যদি কন্টেন্ট রাইটিং এই প্রথম শুনে থাকেন তবুও আর্টিকেল রাইটিং নিশ্চয় শুনে থাকবেন। না শুনে থাকলেও সমস্যা নেই -শুনে নিন। বিভিন্য অথবা কোন একটি বিষয়ের উপর লেখা লেখি করা হচ্ছে আর্টিকেল রাইটিং। যেমন – খবরের কাগজে, ম্যাগাজিনে, অনলাইনে, কোন ওয়েবসাইট এর জন্য, কোন ভাষণ বা ক্লাশ লেকচার, কোন পণ্য বা অন্য কিছুর উপর আলোচনা বা সমালোচনা মুলক অথবা কোন এক শ্রেনিবিশেষ এর জন্য যে কোন লেখা হতে পারে। এইসব আর্টিকেল যখন কোথাও প্রকাশিত করা হয় তখন তাকে কন্টেন্ট বলে। আর হ্যা, আমি নতুনদের জন্য কোনভাবে গোজা মিল দিলাম কোন এক বিশেষ উদ্দেশ্যে। আর তা হল আমি এখানে শুধু অনলাইন কন্টেন্ট কে ফোকাস করে আলোচনা করব।

একমাত্র পেশা না পার্ট টাইম পেশা হিসেবে নিবেনঃ

 

কন্টেন্ট রাইটিং পার্ট টাইম না ফুল টাইম পেশা হিসেবে নেয়া যাবে এ প্রশ্ন আমাকে করলে আমি বলব এর কোনটিই নয় বরং একটি নেশা হিসেবে নিন। সঠিক সময়ে আপনি বুঝতে পারবেন এটি আপনার জন্য পেশা হিসেবে নেয়া ঠিক হবে কিনা।আর একটি কথা বলে রাখছি, অনলাইন জগতে সবচেয়ে বেশি চাহিদা কন্টেন্ট এর। এজগতটি যত বড় হচ্ছে রাইটারের আভাব ততই বাড়ছে। আর্থিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে গেলে বলব আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে প্রতিদিন ২-৩ ঘণ্টা কাজ করে শুরুর দিকে ৫০০০-৭০০০ টাকা কামানো সম্ভব। আর্টিকেলের মান ভাল হলে ১০,০০০-১৫,০০০ টাকা কামানো সম্ভব। আর ফুল টাইমে এর পরিমান দাড়াতে পারে ২৫,০০০-৩০,০০০ টাকা। তবে আপনি যদি UpWork, Elance, Freelancer, Fiverr এর মত মার্কেটপ্লেসেগুলুতে কাজ করতে পাড়েন তবে প্রতি আর্টিকেলে $৩-$১৫ মূল্য পেতে পাড়েন। আমি পানির মত বলে গেলাম, আপনি কিন্তু পানির মত সোজা মনে করবেন না। এ সবের জন্য আপনাকে অবশ্যই একজন ভাল রাইটার হতে হবে।

 

কিভাবে শুরু করবেন বা ভয় পাচ্ছেন পারবেন কি না?

 

অনেকে আমাকে বলে আমি কিভাবে রাইটার হব, আমিতো তেমন কোন বিষয় সম্পর্কে জানিনা। একটা বিষয় সম্পর্কে ভাল না জেনে কিভাবে লেখা যায়? খুবই ভাল প্রশ্ন। আপনি যদি ভাল ইংরেজি জানেন তাহলেই রাইটার হতে পারেন, কিন্তু আপনাকে অবশ্যই এ ব্যাপারে ভাল কোন রাইটারের তত্ত্বাবধানে থেকে কিছুদিন প্র্যাকটিস করে যেতে হবে এবং তার পরামর্শ গ্রহন করতে হবে। দেখুন, আর্টিকেল দুই ধরনের হয়-নিউ রাইট আর্টিকেল এবং রিরাইট আর্টিকেল (বুঝতেই পারছেন ডিমান্ডও দুই ধরনের হবে)। রিরাইট নিয়ে কিছু লোকের নেগেটিভ ধারনা আছে। তাদের জন্য বলছি – যখন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কোন বক্তব্য রাখেন তখন কিন্তু সকলেই (সাংবাদিক) একি বক্তব্য লিখেন। খবরের কাগজে কিন্তু সব এক থাকেনা, যে যার যার দক্ষতা বলে রিরাইট করে নিজেকে সেরা রাইটার বানিয়ে ফেলেন।

 

নিউ রাইট আর্টিকেল আবার দুই ভাবে লিখা যায়। ক) এক্ষেত্রে আপনাকে ওই বিষয়ের উপর ভাল ধারনা থাকতে হবে অথবা বিশেষজ্ঞ হতে হবে। যেমন, একজন ডাক্তার হেলথ টিপস লিখল অথবা কোন SEO Specialist টিউটোরিয়াল বা টিপস লিখল। খ) এক্ষেত্রে আপনাকে বিশেষজ্ঞ হতে হবে না। বিভিন্ন রিসোর্স ঘেঁটে অনেক স্বচ্ছ ধারনা(ত্রুটিমুক্ত ধারনা) নিয়ে নিজেই লিখতে পারেন যেকোনো বিষয়ে।

 

রিরাইট আর্টিকেল দুই ভাবে লেখা যেতে পারে। ক) কোন বিষয় সম্পর্কিত ৩-৪ আর্টিকেল থেকে বিশেষ ও গুরুত্ব পূর্ণ অংশগুলো নিয়ে একটি আর্টিকেলের রূপ দিতে হয়। তারপর উক্ত আর্টিকেলকে পড়ে বুঝে নিজের মত করে সাজিয়ে আরেকটি আর্টিকেলে রূপ দিতে হবে। খ) একটি আর্টিকেল থেকে বিশেষ ও গুরুত্ব পূর্ণ অংশগুলো ঠিক রেখে আরেকটি আর্টিকেলের রূপ দিতে হয় (খবরের কাগজের খবরের মত)। তবে কারও ধারনা রিরাইট আর্টিকেল মানে একটি আর্টিকেল কিছু কিছু জায়গায় পরিবর্তন করলেই হয়। ধারনাটা সত্যিই অনেক বিপদজনক। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, পুরবের আর্টিকেলের বিষয় ঠিক থাকলেও লেখা পুরোটাই আলাদা হতে হবে। একটি লাইনও হুবুহু ডুপ্লিকেট করা যাবে না। ভুলে ডুপ্লিকেট হয়ে গেল কিনা তা Plagiarism দিয়ে চেক দিতে হবে।

 

পরিশেষে সতর্ক করছি যে, এ পেশাতে সততার কোন বিকল্প নাই-একদিনের ভুল সারা জীবনের অবিশ্বাস। আশা করি মনে সাহস কিছুটা জন্মেছে, তাই নয় কি? এখনও যদি আপনার মনে ইচ্ছা না জন্মে থাকে তাহলে দুইটা হাত কিছু নেয়ার মত করে উপর দিকে তুলে বলুন – হায় আল্লাহ্, আমাকে সরল ও সঠিক পথ দেখাও।

আপনাদের আগ্রহ থাকলে আবার কোন দিন লিখার চেষ্টা করব-‘‘কিভাবে একটি আর্টিকেল সুন্দর ও আকর্ষণীও করতে হয়’’

Divert More Traffic
For Your Website

Subscribe to our mailing list and get interesting stuff and updates to your email inbox.

Web Design BangladeshWeb Design BangladeshMymensingh